ফ্রিল্যান্সিং কাজ কি? আপনি কেন Freelancing করবেন?

আজকাল, ডিজিটাল মাধ্যমে কাজ করে এমন অনেককেই তার কাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলে, “আমি একজন ফ্রিল্যান্সার”। আর আপনিও বিভিন্ন জায়গায় ফ্রিল্যান্সিং কথাটি শুনে থাকবেন। কিন্তু আপনি হয়তোবা এখনো জানেন না যে, Freelancing কি? যেখানে, আপনার এরকম অনেক কাছের বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজন কিংবা অনলাইনে এমন কেউ পরিচিত থাকতে পারে, যারা ফ্রিল্যান্সার হবার জন্য তার চাকরিকে ছেড়ে দিয়েছে।

এমন অনেককেই দেখা যায় যে, ফ্রিল্যান্সার হওয়ার জন্য তারা তাদের চাকরি ছেড়ে দিয়েছে এবং বর্তমানে তারা বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে কাজ করছে। কিন্তু আপনি তো বর্তমানে জানেন না, ফ্রিল্যান্সিং কি? তারা কেন এমনটি করে এবং ফ্রিল্যান্সাররা ঠিক কোন কোন কাজগুলো করে?

বন্ধুরা, ফ্রিল্যান্সিং কি, ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার কেমন এবং চাকরি বাদ দিয়ে আপনি কেন ফ্রিল্যান্সিং করবেন ইত্যাদি এসব প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবার জন্যই আজকের এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে।

আজকের এই ব্লগে আপনারা যেসব বিষয়গুলো সর্ম্পকে জানবেন:

ফ্রিল্যান্সিং কি? এবং Freelancing কাকে বলে?

Freelancing হলো একটি চুক্তিভিত্তিক পেশা, যেখানে কোন প্রতিষ্ঠান নিয়োগ হওয়ার পরিবর্তে, কোন ব্যক্তি তার দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে কাজ করার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে। বিষয়টিকে আরও সহজ করে বলতে গেলে, ফ্রিল্যান্সিং হলো: কোন প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ না করে নিজের ইচ্ছামত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজ করিয়ে অর্থ উপার্জন করা।

কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অধীনে না থেকে মুক্তভাবে কাজ করাকে ফ্রিল্যান্সিং বোঝায়। আর যারা কোন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তির অধীনে কাজ না করে স্বাধীনভাবে কাজ করে থাকে, তাদেরকে ফ্রিল্যান্সার বা মুক্ত পেশাজীবী বলে। স্বাভাবিকভাবে আমরা যখন কোন প্রতিষ্ঠানের অধীনে চাকরি করি, তখন আমাদেরকে তাদের গাইডলাইন অনুযায়ী কাজ করতে হয় এবং মাস শেষে আমাদেরকে বেতন দেয়। কিন্তু, একজন ফ্রিল্যান্সার বা মুক্ত পেশাজীবী ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে, তার দক্ষতা অনুযায়ী বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের লোকের কাজ করে দেয় এবং তার বিনিময় একটি পারিশ্রমিক নেয়।

এই বিষয়টি আরো সহজ ভাবে বুঝানোর জন্য চলুন আপনাকে একটি উদাহরণ দেওয়া যাক, যাতে করে আপনি পরবর্তীতে অন্য কাউকেও ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টি খুব সহজেই বোঝাতে পারেন।

মনে করুন, আপনার একটি ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন করতে হবে। এক্ষেত্রে সেই ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন করার জন্য আপনার কাছে দুইটা অপশন আছে; একটি হলো আপনি নিজে করা অথবা অন্য কাউকে দিয়ে করিয়ে নেওয়া। কিন্তু, আপনি যদি এডিটিং এর কাজ না পারেন অথবা আপনার যদি সময় না হয়, তাহলে আপনি কি করবেন? তাহলে এক্ষেত্রে আপনি অবশ্যই আপনার বন্ধু-বান্ধব অথবা পরিচিতজনদের খোঁজ করতে থাকবেন, যারা আপনাকে আপনার ছবির কাজ করে দিতে পারবে। কিন্তু দেখা গেল যে, আপনার পরিচিত এমন কেউ এই ছবিটির কাজ করে দিতে পারছেনা এবং তারা করলেও বেশি অর্থ চাচ্ছে।

এবার আপনি যদি একটু স্মার্ট হয়ে থাকেন এবং অনলাইনে কোন একটি ফেসবুক গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে আপনি অবশ্যই সেই কমিউনিটিকে আপনার কাজের জন্য অফার করতে পারেন। এবার সেই গ্রুপের কোন একজন ব্যক্তি যদি আপনার কাজের সম্পূর্ণ বিবরণ শুনে আপনার কাজটি করে দিতে চায়, তাহলে আপনি কিন্তু তার কাছ থেকে কাজটি করে নিতে পারবেন।

এখানে উপরের উদাহরণের প্রক্রিয়াটি ছিল মূলত ফ্রিল্যান্সিং। যেখানে কাজ দেওয়া ব্যক্তিকে বলা হয় ক্লায়েন্ট (client) এবং যে কাজ করলো, সে হলো ফ্রিল্যান্সার (freelancer)। এখানে ফেসবুকে আপনার সঙ্গে কোন একজন ফ্রিল্যান্সার যোগাযোগ করে আপনার কাছ থেকে কাজটি বুঝে নিল এবং আপনার দেওয়া গাইডলাইন অনুযায়ী সে আপনার কাজটি করে দিল। এক্ষেত্রে সেই ফ্রিল্যান্সার কোন প্রতিষ্ঠানের অধীনে না থেকে, শুধুমাত্র আপনার চাহিদা অনুযায়ী কাজ করিয়ে দিয়ে আপনার থেকে একটি অ্যামাউন্ট চার্জ করল।

অনলাইনে এভাবে করে বিভিন্ন চাহিদা অনুযায়ী ফ্রিল্যান্সাররা কাজ করে থাকে। আর ফ্রিল্যান্সাররা এসব কাজগুলো সহজভাবে খুঁজে নেবার জন্য ব্যবহার করে থাকে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing) মার্কেটপ্লেস।

একজন ফ্রিল্যান্সার কি করেন?

একজন ফ্রীল্যান্সার হলো, যিনি মুক্ত পেশাজীবী কর্মী এবং যিনি একাধিক ব্যক্তির কাজ করে অর্থ উপার্জন করেন। একজন Freelancer তার ক্লায়েন্টকে কি ধরনের পরিষেবা দেবে, এটি তার দক্ষতার উপর নির্ভর করে।

যেমন ধরুন, কোন একজন ব্যক্তির একটি ফটো এডিট করে নেবার প্রয়োজন এবং সে একজন ফ্রিল্যান্সারকে হায়ার করলো। এক্ষেত্রে অবশ্যই সেই ফ্রিল্যান্সার কে ফটো এডিটিং এর উপর দক্ষ থাকতে হবে।

একইভাবে, কোন ক্লায়েন্ট যদি কোন ফ্রিল্যান্সারের কাছ থেকে ভিডিও এডিট করে নিতে চায়, তাহলে অপরপ্রান্তের সেই ফ্রিল্যান্সারকে অবশ্যই ভিডিও এডিটিং করার ক্ষেত্রে দক্ষ হতে হবে। আপনি নিজে যদি অনলাইনে কারো কাছ থেকে কোন একটি কাজ করে নিতে চান, তাহলে আপনি হচ্ছেন ক্লায়েন্ট এবং যার কাছ থেকে কাজটি করে নিবেন, তাকে ফ্রিল্যান্সার বলা হয়। আশা করছি যে, ফ্রিল্যান্সার কে? এই বিষয়টি সম্পর্কে আপনি সম্পূর্ণ বুঝতে পেরেছেন।

পেশা হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার কেমন?

পেশা হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার

কারো অধীনে কাজ করার ইচ্ছা না থাকলে এবং চাকরির চাইতে বেশি টাকা ইনকাম করার ইচ্ছা থাকলে ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া বা এই খাতে ক্যারিয়ার গড়া অনেক ভালো একটি সিদ্ধান্ত। Freelancing কে পেশা হিসেবে বেছে নিলে, ভবিষ্যতে অনেক কিছু করা সম্ভব হতে পারে। এছাড়া যারা নিয়ম নীতির মধ্যে থেকে কাজ করতে চায় না, তাদের ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া অবশ্যই যুক্তিযুক্ত হবে। আপনার ভেতরে যদি ক্রিয়েটিভিটি থাকে তবে আপনাকে অবশ্যই Freelancing হিসেবে ক্যারিয়ার গড়া উঠিত।

ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে বেছে নেবার জন্য অবশ্যই নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। Freelancing কে একটি লোভনীয় পেশা বলা যায়। এখানে সকল শ্রেণীর মানুষ কাজের জন্য আসে এবং তারা কোন এক পর্যায়ে নিজেদেরকে সফল পর্যায়ে নিয়ে যায়। পেশা হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং কে বেছে নিলে, এজন্য প্রথমেই আগে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে এবং নিজের প্রচুর কাজের অফার থাকতে হবে। আর তাহলেই freelancing ক্যারিয়ার গড়ে তোলা সহজ হবে।

পেশা হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং বেছে নেবার জন্য প্রথমেই আপনি যদি ভাল একটি চাকরির সুযোগ করে দেন, তাহলে এক্ষেত্রে এটি বোকামিই হবে। কেননা, পেশা হিসেবে এটিকে বেছে নেবার জন্য, অবশ্যই চাকরির চাইতে Freelancing এর আয় বেশি হতে হবে। এক্ষেত্রে চাকরি ছেড়ে দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং বেছে নিলে এবং এখানে এসে কোনো কাজ না পেলে, হতাশা ভর করবে।

Freelancing করার ক্ষেত্রে সকলের চাহিদা হবার জন্য, এ খাতে প্রচুর প্রতিযোগী সৃষ্টি হয়েছে। তাই পেশা হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং কে বেছে নেবার জন্য অবশ্যই নিজেকে কোনো একটি বিষয় শেখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে এবং মার্কেটপ্লেসে কাজ করে চাকরির চাইতে বেশি ইনকাম হবার পর, এটিকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া যেতে পারে। আর তারপরই freelancing ক্যারিয়ার শুরু করা যেতে পারে।

আপনার ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিং করতে কি কি প্রয়োজন?

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য আপনার একটি কম্পিউটার, ইন্টারনেট সংযোগ এবং আপনার ইচ্ছা থাকা প্রয়োজন। Freelancing করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর মধ্যে এই তিনটি সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য আপনার অবশ্যই একটি কম্পিউটার এর প্রয়োজন হবে এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে আপনার সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সেটিকে ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন পড়বে। এই ক্যারিয়ারে আসার জন্য আপনাকে অবশ্যই অনেক ধৈর্যশীল হতে হবে। কেননা, এই খাতে সফলতা অনেক দেরিতে আসতে পারে।

তাই বলা যায় যে, Freelancing করার জন্য সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আপনার ধৈর্য। ফ্রিল্যান্সিং করার ক্ষেত্রে আপনার সফলতা অনেক দেরিতে আসলেও এখানে লেগে নিজের দক্ষতা উন্নয়নের পিছনে সেই সময় ব্যয় করা দরকার।

কিভাবে ফ্রিল্যান্সার হওয়া যাবে?

একজন ফ্রিল্যান্সার হবার জন্য আপনাকে প্রথমে কোনো একটি কাজে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে অনলাইনে বিভিন্ন কাজ করে আয় করার জন্য অনেকগুলো কাজের অপশন রয়েছে। অনলাইন মার্কেটপ্লেস গুলোতে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্র হিসেবে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েবসাইট ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট, অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন ইত্যাদি কাজ রয়েছে।

একজন ফ্রীল্যান্সার হিসেবে কাজ করার জন্য আপনাকে অবশ্যই এগুলোর মধ্যে থেকে যেকোন একটি কাজ শিখতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি যে কাজে দক্ষ বা যে কাজ ভাল করতে পারবেন, সেই কাজটি প্রথমে বেছে নিন। এবার সেই কাজে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করার জন্য, সেটি ভালোভাবে শিখতে থাকুন। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে কাজ করে আয় করা যায়, এমন সব কাজের মধ্য থেকে আপনি এমন একটি কাজ বেছে নিয়ে সেটি‌ নিজে থেকে শিখতে পারেন অথবা এক্ষেত্রে অন্য কারো সাহায্য নিতে পারেন। এক্ষেত্রে সেসব কাজ শেখার জন্য আপনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দ্বারস্থ হতে পারেন।

উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখে অনলাইন থেকে আয় করতে চান বা গ্রাফিক্স ডিজাইন এর কাজ করে দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করতে চান, তাহলে আপনাকে কোন গ্রাফিক্স ডিজাইন কোর্স করতে হবে অথবা নিজে থেকে শিখতে হবে। নিজে থেকে গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার জন্য অথবা অন্য কোন কাজ শেখার জন্য আপনি ইউটিউব কে বেছে নিতে পারেন। বর্তমানে বিভিন্ন কাজ শেখার জন্য ইউটিউবে অনেকেই ধারাবাহিকভাবে ভিডিও আপলোড করে থাকে। আপনি যদি কোনো ধরণের কোর্স না করে নিজে থেকেই শিখতে চান, তাহলে আপনি এক্ষেত্রে বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলের সাহায্য নিতে পারেন। যেরকম ভাবে আপনি ইউটিউবে গ্রাফিক্স ডিজাইন লিখে সার্চ করলে অনেক টিউটোরিয়াল মূলক ভিডিও পেয়ে যাবেন।

এছাড়া আপনি যদি ভিডিও দেখে না শিখতে পারেন অথবা শেখার ক্ষেত্রে আপনার যদি একজন লোকের সাহায্যের প্রয়োজন পড়ে, তাহলে আপনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাছে প্রয়োজনীয় কোর্সটি করতে পারেন। বর্তমানে এরকম অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা অল্প টাকায় আপনাকে বিভিন্ন Freelancing মার্কেটপ্লেস এর কাজগুলো শিখিয়ে থাকে। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে কাজ করার জন্য আপনি অবশ্যই একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রশিক্ষণ নিবেন; যেখানে প্রশিক্ষণ করা লোকেরা Freelancing-এ সফল হয়েছে।

আপনি কীভাবে Freelancing এর যাত্রা শুরু করবেন?

ফ্রিল্যান্সিং এর যাত্রা শুরু করার জন্য আপনাকে প্রথমেই কোন একটি কাজের দক্ষতা অর্জন করতে হবে। কোন একটি কাজ শেখার পর, এবার বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে আপনার দক্ষতা অনুযায়ী কাজের অনুসন্ধান করতে হবে। ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং করে আয় করার জন্য বর্তমানে অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে। এসব Freelancing Marketplace গুলোতে মানুষ তাদের কাজের জন্য অফার করে থাকে। আর এসব ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে কাজ করার জন্য আপনাকে এসব ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে।

এবার আপনি যখন কোনো একটি কাজে দক্ষ হবেন, তখন সেসব মার্কেটপ্লেস গুলোতে গিয়ে আপনার দক্ষতা অনুযায়ী সেসব কাজে বিড করবেন। তারপর প্রোফাইল দেখে ক্লায়েন্টের কাছে ভালো লাগলে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করবে এবং আপনাকে কাজটি দিয়ে দিবে। এছাড়া মার্কেটপ্লেস ভেদে কাজ বেছে নেবার প্রক্রিয়া ভিন্ন ভিন্ন হয়। মার্কেটপ্লেস কি, এটা নিয়ে আমার পরবর্তী আর্টিকেলটি দেখুন।

ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবেন?

ফ্রিল্যান্সিং শেখার জন্য আপনি আগে কোন একটি কাজ বেছে নিন। আপনাকে অবশ্যই সেই ধরনের কাজ বেছে নিতে হবে, যে বিষয়ে আপনার ইন্টারেস্ট রয়েছে। আপনি কোন কাজ ভাল করতে পারেন বা করতে পারবেন, প্রথমে সেটি চিন্তা করুন। আপনার ভাললাগা কাজটিকে দেখে নেবার পর এবার কাজে লেগে পড়ুন। এবার কাজ শেখার জন্য আপনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অথবা ইউটিউব এর সহায়তা নিতে পারেন। আপনি যদি Freelancing সম্পর্কে কিছুই না জেনে থাকেন অথবা ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করা যায় এমন সব ক্যাটাগরি সম্পর্কে না জেনে থাকেন, তাহলে প্রথমে আপনাকে এই বিষয়গুলো নিয়ে অনুসন্ধান করা জরুরি।

ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করার চিন্তা নিয়ে প্রথমেই কোন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি না হয়ে, বরং প্রথমে আগে কিছুটা অনুসন্ধান করে জরুরি। এজন্য আপনাকে ইন্টারনেট ব্রাউজিং করার বেসিক ধারণা গুলো নেওয়া প্রয়োজন। এতে করে পরবর্তীতে কোন একটি কাজ শেখার ক্ষেত্রে বা কোন একটি প্রতিষ্ঠানে কোনো কাজের কোর্স করার ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা হবে। আপনি যদি প্রথম থেকেই একেবারেই অজ্ঞ হয়ে ফ্রিল্যান্সিং শেখার জন্য কোন একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হন, তাহলে সে সব বিষয়গুলো আপনার মাথায় ঢুকতে সমস্যা হতে পারে।

তাই ফ্রিল্যান্সিং শেখার ক্ষেত্রে, আপনাকে প্রথমে ইন্টারনেটের বেসিক ধারনা নেওয়া প্রয়োজন। আর এক্ষেত্রে আপনি গুগল এবং ইউটিউব কে বেছে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনি যে কাজটি নিয়ে ভবিষ্যতে ফ্রিল্যান্সিং করতে চাইবেন, সেটি লিখে সার্চ করে ইউটিউব থেকে Play list-এর ভিডিও গুলো দেখতে পারেন। যেকোনো কাজের উপর Play list-এর ভিডিও গুলো ধারাবাহিক এবং তথ্যবহুল হয়ে থাকে।

Freelancing করে কত টাকা আয় করা যায়?

প্রথমেই বলি, ফ্রিল্যান্সিং করে কত টাকা আয় করা যাবে এটি নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে কত টাকা আয় করতে পারবেন, এটি সম্পূর্ণ আপনার কাজের এবং দক্ষতার উপর নির্ভর করবে। একজন দক্ষ ফ্রিল্যান্সার মাসে লক্ষাধিক টাকার উপরে আয় করে থাকে। অনেক ফ্রিল্যান্সার রয়েছে, যারা এর থেকে আরও বেশি ইনকাম করে থাকে। তবে সবাই যে লক্ষাধিক টাকা ইনকাম করে, ব্যাপারটা তা নয়। যেখানে কারণ ইনকাম হয়তোবা মাসে মাত্র কয়েক হাজার টাকা।

ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করার মাত্রা নির্ভর করে নিজের দক্ষতা এবং কাজের উপর। Freelancing সেক্টরে যে যত বেশি কাজ করে, সে ততো বেশি আয় করে থাকে। তাই ফ্রিল্যান্সিং করে কত টাকা আয় করা যাবে, এটি নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।

ফ্রিল্যান্সিং এর সুবিধা

ফ্রিলান্সিং এর সুবিধার কথা বলতে গেলে; Freelancing করার মাধ্যমে মুক্তভাবে কাজ করার সুযোগ পাওয়া যায়। এখানে কাজের ক্ষেত্রে কারো অধীনে থাকতে হয় না। যেখানে শুধুমাত্র গ্রাহকের কাজের গাইডলাইন অনুসরণ করে কাজ জমা দিলেই অর্থ পাওয়া যায়। তবুও চলুন, ফ্রিল্যান্সিংয়ের কিছু সুবিধা দেখে নেয়া যাক।
কাজ করার ক্ষেত্রে সময়ের স্বাধীনতা

ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে কাজ করার ক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছামত সময় কাজ করা যায়। কেউ চাইলে নিজে থেকে কাজ করতে পারেন অথবা ইচ্ছা না হলে, না করতে পারে। এছাড়া কোন কাজ নিয়ে সেটির দিনের যেকোনো সময় করার স্বাধীনতা থাকে; যেখানে প্রথাগত চাকরিতে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না

নিজের বেতন নিজে ঠিক করা: ফ্রিল্যান্সিং করার ক্ষেত্রে আরও একটি সুবিধা হল, এখানে নিজের বেতন নিজেই ঠিক করা যায়। কোন একটি কাজ করিয়ে দেবার জন্য আপনি কি ধরনের অর্থ নিবেন, সেটি আপনি নিজে থেকেই নির্ধারণ করতে পারেন। কোন একজন ব্যক্তির কাছে আপনার পরিষেবা দেবার ভিত্তিতে অর্থের পরিমাণের মিল হলে, সে আপনার কাছ থেকে কাজটি করিয়ে নেবে।

মনের মতো কাজের পরিবেশ: ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে কাজ করার ক্ষেত্রে আপনি বাড়ি বা যেকোন জায়গা থেকে কাজ করতে পারবেন। আমি ক্ষেত্রে আপনি মনের মত পরিবেশে থেকে আপনার কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু কোন প্রতিষ্ঠান অধীনে হয়ে চাকরি করলে আপনি এটা করতে পারবেন না।

কীভাবে একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হবেন?

সফল ফ্রিল্যান্সার হওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই কাজের উপর লেগে থাকতে হবে। ফ্রিল্যান্সার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করার সময় প্রথমদিকে সবার ক্ষেত্রেই একটু সমস্যা হয়। আর এক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হওয়ার জন্য অবশ্যই ধৈর্য সহকারে নিজের কাজ চালিয়ে যেতে হবে এবং নিজের স্কিল ডেভেলপ করতে হবে। প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করার জন্য অবশ্যই নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে; আর তা না হলে, এই সেক্টরে টিকে থাকা যাবে।

কেননা বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে রয়েছে হাজারো প্রতিযোগী। এগুলোর মধ্যে থেকে নিজেকে অনেক বেশি দক্ষ করে তোলা অত্যন্ত জরুরী। যেখানে প্রথমদিকে কাজ পেতে অনেক সমস্যা হলেও, দক্ষতার সঙ্গে প্রথম এর কাজগুলো করার পর পরবর্তীতে এমনিতেই কাজ এসে হাজির হবে। আপনার কাছে কোন একজন ক্লায়েন্ট খুশি হলে, পরবর্তীতে সে নিজে থেকেই আপনাকে খোঁজ করে নিবে। এছাড়া কাজ শেষে ক্লায়েন্ট এর রিভিউ আপনাকে অন্যান্য কাজ পেতে সহযোগিতা করবে।

তাই ফ্রীল্যান্সিংয়ে সফল হওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই দক্ষ এবং ধৈর্যশীল হতে হবে। আর তাহলেই আপনি হয়ে উঠবেন একজন সফল ফ্রিল্যান্সার।

বন্ধুরা, এই ছিল মূলত Freelancing সম্পর্কিত আজকের আর্টিকেলটি। আশা করছি ফ্রিল্যান্সিং কি, ফ্রিল্যান্সিং কেন করবেন এবং কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শিখবেন ইত্যাদি বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। আজকের পোস্টটি ভালো লাগলে, এটি আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করতে পারেন এবং এরকম সকল পোষ্ট দেখার জন্য আমার সাইটে নিয়মিত ভিজিট করতে পারেন।

শেষ কথা

বর্তমানে চাকরির বাজার যেরকমভাবে তৈরি হয়েছে, তাতে করে নিজের দক্ষতা অনুযায়ী ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে কাজের খোঁজ করার কোন বিকল্প নেই। তাই আপনিও আজ থেকেই লেগে পড়ুন freelancing সেক্টরের যেকোন কাজ শেখার কাজে এবং গড়ে তুলুন আপনার Freelancing ক্যারিয়ার। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং একটি সম্ভাবনাময় সেক্টর। বর্তমানে এদেশের অনেক তরুণ তাদের দক্ষতা অর্জন করে ফ্রীলান্সিং সেক্টরে কাজ করে যাচ্ছে।

Leave a Comment